আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলার জবাবে তারা অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে।
সোমবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, ইরানের ভূখণ্ডে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সপ্তাহান্তে ইরানের কেশম ও গোরুক অঞ্চলে অবস্থিত রাডার এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর উড্ডয়নরত একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার জবাব হিসেবেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় নতুন করে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। যদিও যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবুও উভয় পক্ষের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
এদিকে কুয়েতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি করেছে। বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কূটনৈতিক মহল বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ এড়াতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যথায় পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং আশপাশের কৌশলগত অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা সংকট আরও গভীর হতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন