ক্রীড়া ডেস্ক
আরেকটি বিশ্বকাপ, আরেকবার শিরোপার স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্নের কেন্দ্রে আবারও Lionel Messi। বয়স ৩৯ ছুঁইছুঁই, ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল ছেড়েছেন প্রায় তিন বছর আগে, তবু বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে আর্জেন্টিনার প্রধান আলোচনার বিষয় এখনো তিনি। প্রশ্ন একটাই—মেসি কি আবারও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারবেন?
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন মেসি। সাত ম্যাচে সাত গোল ও তিন অ্যাসিস্টে তিনি ছিলেন দলের প্রাণভোমরা। ফাইনালে France-এর বিপক্ষে জোড়া গোল করে এবং টাইব্রেকারে সফল শটে তিনি পূর্ণতা দেন নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অধ্যায়কে।
সেই সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের গুঞ্জন উঠলেও মাঠ ছাড়েননি মেসি। বরং নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গেছেন। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিরল অর্জন।
বিশ্বকাপের আগে মেসির বর্তমান ফর্মও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আশাবাদী করছে। Inter Miami CF-এর হয়ে চলতি মৌসুমে ১৬ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন তিনি। যদিও সম্প্রতি হ্যামস্ট্রিংয়ের সামান্য চোটে পড়েছিলেন, দলীয় সূত্রগুলো আশা করছে বিশ্বকাপের আগেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
মেসির সামনে রয়েছে আরেকটি অনন্য মাইলফলকও। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচ খেলার ইতিহাস গড়তে তাঁর প্রয়োজন মাত্র দুটি ম্যাচ। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচেই সেই রেকর্ড স্পর্শ করার সম্ভাবনা রয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের।
তবে আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় এবারের আর্জেন্টিনা অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ দল। শুধু মেসিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে দলটি এখন শক্তিশালী একটি ইউনিটে পরিণত হয়েছে। Julián Álvarez, Lautaro Martínez, Enzo Fernández, Alexis Mac Allister, Cristian Romero এবং Emiliano Martínez-এর মতো তারকারা এখন নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী Brazil-কে ৪-১ গোলে হারানোর ম্যাচটিও আর্জেন্টিনা খেলেছিল মেসিকে ছাড়াই। সেই ফলাফল প্রমাণ করে, দলটি এখন শুধু একজন ফুটবলারের ওপর নির্ভরশীল নয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আলভারেজ বলেছেন, মেসির বয়স বিবেচনায় এটি হয়তো তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেসির নিজের। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মেসিকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী যে আবেগ ও প্রত্যাশা রয়েছে, তা এই বিশ্বকাপকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। তুলনামূলক সহজ গ্রুপ পেলেও নকআউট পর্বে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জন্য।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মেসির নাম ইতোমধ্যেই অমর হয়ে গেছে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর জন্য হতে পারে আরেকটি ঐতিহাসিক বিদায়ের মঞ্চ। আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা বিশ্বাস করেন, শেষবারের মতো বিশ্বকাপের আলোয় দাঁড়িয়ে মেসি আবারও তাঁদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।
✍️ মন্তব্য লিখুন