ডেস্ক নিউজ
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র Neymar আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আবেগঘন এক বার্তায় তিনি ঘোষণা দেন, যে মাঠে তাঁর বিশ্বকাপ যাত্রার সূচনা হয়েছিল, সেই মাঠেই শেষ হলো দেশের জার্সিতে তাঁর অধ্যায়।
নেইমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “আমি চেষ্টা করেছিলাম, সত্যিই চেষ্টা করেছিলাম। এই মাঠেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর আজ এখানেই আমি শেষ করলাম। সবকিছু এখন শেষ।” তাঁর এই বার্তা মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে নরওয়ের কাছে ২–১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। ম্যাচের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও দলকে পরাজয় থেকে বাঁচাতে পারেননি নেইমার। সেই ম্যাচটিই হয়ে থাকল তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।
২০১০ সালে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেকের পর চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেন নেইমার। বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে না পারলেও দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম অমর করে গেছেন। ব্রাজিলের হয়ে ১২৯ ম্যাচে ৮০ গোল করে তিনি কিংবদন্তি Pelé-কে ছাড়িয়ে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে পৌঁছান।
জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অন্যতম বড় সাফল্য আসে ২০১৬ সালের Summer Olympics-এ, যেখানে তাঁর নেতৃত্বে ব্রাজিল প্রথমবারের মতো অলিম্পিক ফুটবলে স্বর্ণপদক জেতে। এছাড়া ২০১২ অলিম্পিকে দলকে রৌপ্যপদকও এনে দেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শেষদিকে বারবার চোট ও ফিটনেস সমস্যায় ভুগেছেন নেইমার। চলতি বিশ্বকাপেও তিনি নিয়মিত একাদশে ছিলেন না; বদলি হিসেবে সীমিত সময় মাঠে নেমেই নিজের শেষ আন্তর্জাতিক গোলটি করেন। তবু তাঁর বিদায় ফুটবল ইতিহাসে এক আবেগঘন অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নেইমারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিল ফুটবলের একটি স্বর্ণালি যুগের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। তাঁর নৈপুণ্য, সৃজনশীলতা এবং অসাধারণ গোল করার ক্ষমতা ভবিষ্যতেও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন