আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা, চীনের সামরিক উত্থান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন প্রতিরক্ষা বাজেট, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মহাকাশভিত্তিক নজরদারি প্রযুক্তি এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ওয়াশিংটন বৈশ্বিক সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন) সম্প্রতি যে পরিকল্পনা সামনে এনেছে, তাতে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আগামী বছরগুলোতে তা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যয়ের বড় অংশ ব্যয় করা হবে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং মহাকাশ প্রতিরক্ষা খাতে। একই সঙ্গে উন্নত ড্রোন, হাইপারসনিক অস্ত্র এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা সংলাপে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সামরিক সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি এশিয়ার মিত্র দেশগুলোকেও সামরিক ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি মার্কিন স্পেস ফোর্স উন্নত হুমকি শনাক্তকরণ স্যাটেলাইট তৈরির জন্য বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি অনুমোদন করেছে। এর লক্ষ্য হলো ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথের সম্ভাব্য হুমকি দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলা করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতার কারণে বিশ্বব্যাপী নতুন সামরিক ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে। সেই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক শক্তিকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে চাইছে। তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর ফলে বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য যুদ্ধ নয়; বরং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করা, মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা।
✍️ মন্তব্য লিখুন