ঢাকার পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ (১ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ ফ্রেম) শুনানির মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ার সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ২৩ মে রাজধানীর পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্প এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত শেষে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হলে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হবে। রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুততম সময়ে বিচার শেষ করে রায় ঘোষণার আশা প্রকাশ করেছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এই মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানাবে।
রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশব্যাপী ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছিল। আজ শুরু হওয়া বিচারিক কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে নিহত শিশুটির পরিবার, মানবাধিকার সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের। দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।
✍️ মন্তব্য লিখুন