আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ওয়াশিংটনের অবস্থানকে কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট আলোচনা শুরু হয়নি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বার্তা আসছে, যা দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে বৃহত্তর কোনো আঞ্চলিক সমঝোতা বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ এগোনো কঠিন হবে। তেহরান মনে করে, লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকর্তা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দাবি করেছেন যে দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং একটি কাঠামোগত চুক্তির ভিত্তি নিয়েও অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে ইরান বারবার এসব দাবিকে অতিরঞ্জিত বা বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে। ফলে উভয় পক্ষ আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ না করলেও কার্যকর পারমাণবিক সংলাপ শুরু হওয়ার পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা এবং পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের কারণে নতুন কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ কত দ্রুত এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন ছাড়া পারমাণবিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন কঠিন হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন