নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৃথক একটি সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)-এর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থাও চালু করা হবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
“প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নজরে রাখতে চাই”
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, “আমি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে কাজ করছে তা দেখতে চাই। ইউজিসির রিপোর্ট যেমন থাকবে, তেমনি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব রিপোর্টও থাকবে।”
অবকাঠামো নয়, গুরুত্ব পাবে শিক্ষার মান
বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট প্রস্তাব নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এখনো অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়, কিন্তু শিক্ষার মান উন্নয়নে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
তিনি উল্লেখ করেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষা মানোন্নয়নের জন্য আলাদা বরাদ্দ চাওয়া হয় না, যা উদ্বেগজনক। “শুধু বিল্ডিং দিয়ে হবে না, কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চিত করতে হবে”—বলেন তিনি।
বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীসংখ্যা একটি বড় শক্তি। বিশ্বের অনেক দেশে যেখানে শিক্ষার্থীর সংকট রয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে।
তবে বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারলে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার নিয়ে ক্ষোভ
বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য বিকৃত করে ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, এমপিও সংক্রান্ত একটি মন্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, “এখন দেখা যায়, ফেসবুকেই যেন দেশ চালায়”—যা তথ্যপ্রবাহের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
বিশ্লেষণ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদা মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগ উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সেলের কার্যকারিতা নির্ভর করবে এর স্বচ্ছতা, সমন্বয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)-এর সঙ্গে সমন্বিত কাজের ওপর।
সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন