ঢাকা, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে অবকাঠামোগত সংকট মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কোনো শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি স্কুল স্থাপনের জন্য জমি প্রদান করলে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ভবন নির্মাণ করবে এবং প্রতিষ্ঠানটি ওই দাতার নামানুসারে নামকরণ করা হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সিলেট বিভাগ-এর কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মহাসড়ক উন্নয়নে ১৮ স্কুল অপসারণ
মন্ত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় অপসারণ করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠনে সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, “যে সংস্থা স্কুল ভেঙেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে। সেই অর্থ দিয়ে নতুন করে বিদ্যালয় নির্মাণ করা হবে।”
দাতাদের উৎসাহ দিতে বিশেষ উদ্যোগ
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সরকার চায় স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তিরা এগিয়ে আসুক। কেউ যদি জমি প্রদান করেন, তাহলে দ্রুত সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করে দাতার নামেই প্রতিষ্ঠান চালু করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টে সংকট
সভায় শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনিয়মের কারণে ট্রাস্টে পর্যাপ্ত তহবিল নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। কেউ কেউ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে মৃত্যুবরণও করেছেন।
বাজেটে বরাদ্দের আশ্বাস
এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, আগামী জাতীয় বাজেটে শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার চেষ্টা করা হবে। তিনি সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

এই ঘোষণাকে শিক্ষা খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এটি গ্রামীণ ও অবহেলিত অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন