রংপুর, ৯ এপ্রিল ২০২৬ — জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।
রায়ে পুলিশে কর্মরত সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এবং বেরোবির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়া-কেও ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই মামলায় সাবেক এডিসি আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, ডা. সারোয়ার হোসেন এবং সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার ৩০ আসামির মধ্যে বর্তমানে ৬ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন, যার মধ্যে সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, আনোয়ার পারভেজ, এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ অন্তর্ভুক্ত। বাকি ২৪ আসামি এখনো পলাতক।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, যখন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হন। এ হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন হয় এবং পরবর্তীতে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
আবু সাঈদের পরিবার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আবু সাঈদের মেজো ভাই আবু হোসেন বলেন, “হত্যাকাণ্ডে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দ্রুত রায় বাস্তবায়ন করা হোক—এটাই আমাদের দাবি।”
দুই বছর পর ঘোষিত এই রায়ে আলোচিত হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে, যা দেশের বিচারব্যবস্থায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন