ফরিদপুর প্রতিনিধি
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থের স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী ব্যবহারের একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে অব্যয়িত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ প্রায় তিন মাসে সম্পন্ন হয়। শ্রমিকদের মজুরি এবং প্রকল্পের অন্যান্য ব্যয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, কাজের মান, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং সময়মতো বিল পরিশোধ নিশ্চিত করায় প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানো, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ইউএনও মো. দবির উদ্দিন বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। তাই উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাশ্রয়ী ব্যয় নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হওয়ার পর যে অর্থ অব্যয়িত ছিল, তা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও একই নীতি অনুসরণ করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান পরিদর্শন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন