পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি শেষে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী রোববার, ২৯ মার্চ থেকে খুলছে। সংশোধিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রমজান ও ঈদের ছুটি ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার কথা। তবে পরদিন শুক্রবার (২৭ মার্চ) ও শনিবার (২৮ মার্চ) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে ২৯ মার্চ থেকে। ২০২৬ সালের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির সূচি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছিল।
এবারের ছুটি ছিল তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ। রমজান মাস, ঈদুল ফিতর এবং সাপ্তাহিক বন্ধ মিলিয়ে প্রায় ৪০ দিনের বিরতির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় আবার পাঠদান শুরু হচ্ছে। এতে স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে নতুন করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট সরকারি ছুটি ৬৪ দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ঈদের ছুটি শেষে ধাপে ধাপে খুলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় ৯ মার্চ ২০২৬ থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের নিজ নিজ একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ৯ মার্চ দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। সে হিসেবে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রোববার, ২৯ মার্চ থেকে কার্যক্রমে ফিরছে।
ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সরকার ৯ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়, যদিও নির্ধারিত কিছু পরীক্ষা চলার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এতে স্পষ্ট হয়, এবারের ছুটির ব্যবস্থাপনা শুধু সাধারণ স্কুল-কলেজ নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রায় সব ধারাকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সব মিলিয়ে, রমজান-ঈদের দীর্ঘ ছুটি এবং জ্বালানি-বিদ্যুৎ সাশ্রয়কেন্দ্রিক বিশেষ ব্যবস্থার পর দেশের শিক্ষা খাত আবার ২৯ মার্চ ২০২৬, রোববার থেকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে প্রশাসনিক কার্যক্রম, হল খোলা বা পরীক্ষা শুরুর সময়সূচিতে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে; সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন