নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা/কিশোরগঞ্জ | ২৩ মার্চ ২০২৬
কিশোরগঞ্জের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ–এর আইন বিভাগ থেকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডভোকেট এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ২১ জন শিক্ষার্থী প্রথমবারের প্রচেষ্টাতেই আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার সাফল্য অর্জন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্রকাশিত বার কাউন্সিলের এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সমন্বিত চূড়ান্ত ফলাফলে এ সাফল্য আসে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি আইনশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কাজ করে আসছে বলেও দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ জানিয়েছে, এবার যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। উত্তীর্ণদের তালিকায় রয়েছেন—ওয়ালী উল্লাহ্ রাব্বানী তৌকি, তানজিদুর রহমান পিয়াস, রিফাত কবীর দীপ্ত, বদরুন্নেসা ভূঞা, ফাতেমাতুজ জোহরা আঁখি, খন্দকার শাফায়েত উল্লাহ্ আশিক, এম. মাশরুর ইয়ন, তিতাস, মাইশুরিয়া রহমান ঐশী, শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, তাসফিক ইসলাম রাহিন, অন্তু সাহা রায়, শরীফুল ইসলাম পামেল ও সামিয়া হেলাল জ্যোতিসহ আরও অনেকে।
সদ্য আইনজীবী হিসেবে সনদ পাওয়া ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী খন্দকার শাফায়েত উল্লাহ্ আশিক বলেন,
“এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান শিক্ষকদের। তাঁদের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধান ছাড়া প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফল হওয়া কঠিন হতো।”
আইন বিভাগের চেয়ারম্যান রমা দাশ বলেন, নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শিক্ষার্থীদের এ অর্জন অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি বলেন,
“আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের গুণগত মানসম্পন্ন ও পেশাভিত্তিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এর আগেও এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট আয়শা আক্তার লাকী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, কিশোরগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন পেশায় আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের সাফল্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত প্রস্তুতির বাইরে জেলা-ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকেও পেশাজীবী তৈরি হওয়ার প্রবণতা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এ ধরনের সাফল্যের তথ্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক ফলাফল, বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি এবং স্বতন্ত্র যাচাইযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন