বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. আলী হোসেন ফকির। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হলো।
🎖️ ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠান
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত আইজিপিকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নতুন আইজিপির নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
কর্মজীবন ও পটভূমি
• বিসিএস ব্যাচ: ১৫তম বিসিএস, পুলিশ ক্যাডার
• জন্ম: ৫ এপ্রিল ১৯৬৮, বাগেরহাট
• শিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ (অনার্স) ও এম.কম; পরবর্তীতে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন
কর্মজীবনে তিনি নেত্রকোনা, ফেনী ও মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর উত্তরা জোনের ডিসি হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সংগ্রাম ও প্রত্যাবর্তনের গল্প
২০২২ সালের নভেম্বরে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় চাকরিতে প্রত্যাবর্তন করেন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে দেশের সর্বোচ্চ পুলিশ পদ—আইজিপি হিসেবে নিযুক্ত হন।
তার এই দীর্ঘ সংগ্রাম, ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই অনেকে বর্তমান নিয়োগকে দেখছেন।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন
নতুন আইজিপি হিসেবে তিনি বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন।
বিশ্লেষণ
পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং আধুনিকায়নের চ্যালেঞ্জের সময়ে নতুন আইজিপির দায়িত্ব গ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

✍️ মন্তব্য লিখুন