নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মনসুর আহম্মেদ একটি সুপরিচিত ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় নাম। স্কুলজীবন থেকেই সুর ও হারমোনিয়ামের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সখ্য। ‘নোয়াখালী তারুণ্য সাংস্কৃতিক একাডেমি’ থেকে শুরু হওয়া তাঁর সাংস্কৃতিক পথচলা আজও অব্যাহত, যেখানে মেধা, নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগের পাশাপাশি সহজ-সরল জীবনবোধ, উদার মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাঁকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র পরিচিতি।
তাঁর মানবিকতার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত দেখা গেছে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯-এর দুঃসময়ে। যখন অসংখ্য মানুষ অনিশ্চয়তা ও অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন, তখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকেই তিনি গড়ে তোলেন একটি মানবিক উদ্যোগ। সেই উদ্যোগে তার প্রিয় বন্ধু ও প্রতিবেশী দের মাধ্যমে সে সময় দুই শতাধিক অসহায় পরিবারের কাছে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় তার তিনি।
পরবর্তী সময়ে ‘নোয়াখালী ওয়েলফেয়ার টিম’ এর মধ্য দিয়ে তাঁর মানবিক কার্যক্রম পায় আরও সুসংগঠিত রূপ। একটি গোলাপ ইভেন্ট দিয়ে শিশু জান্নাত কে বাঁচাতে একলক্ষ টাকার মতো অনুদান সংগ্রহ সহ অসহায় পৌরকর্মচারী জয়নাল এর অকালমৃত্যু র পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ও দীর্ঘদিন ধরে এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মানুষের কল্যাণে। রমজানে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বন্যায় গৃহহীনদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হুইলচেয়ার প্রদান কিংবা মুমূর্ষু রোগীর জন্য জরুরি রক্তের ব্যবস্থা—মানবিকতার প্রতিটি ক্ষেত্রেই মনসুর আহম্মেদ ও তাঁর দল নোয়াখালী ওয়েলফেয়ার রেখে চলেছেন প্রশংসনীয় অবদান। তাঁর কাছে মানবসেবা কেবল দায়িত্ব নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার এক আন্তরিক প্রকাশ।
এবার তাঁর সাংস্কৃতিক ও মানবিক অভিযাত্রায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়—‘শেকড় থেকে সুরে’। দেশ ও প্রবাসে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান শিল্পীদের একই সুতোয় গেঁথে, শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা। এই উদ্যোগের উপদেষ্টা টিমে যুক্ত রয়েছেন ইতালির রোমপ্রবাসী বিশিষ্ট মানবিক ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী(নোয়াখালী ওয়েলফেয়ার)মিজান ভূঁইয়া।
‘শেকড় থেকে সুরে’ কেবল একটি সংগীত প্রতিযোগিতার নাম নয়; এটি শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা, নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দেশ-প্রবাসের মানুষের মধ্যে আত্মিক বন্ধন গড়ে তোলার এক আন্তরিক প্রয়াস। সুরের মূর্ছনায় একদিকে যেমন বিকশিত হবে নতুন প্রতিভা, অন্যদিকে তেমনি জাগ্রত হবে নিজের মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা।
মনসুর আহম্মেদের এই পথচলা তাই শুধু একজন সাংস্কৃতিক সংগঠকের সাফল্যের গল্প নয়; এটি প্রমাণ করে, শিল্পের সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার সঙ্গে যুক্ত হয় মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।
যে হাতে সুরের সাধনা, সেই হাতেই যখন অসহায়ের জন্য সহায়তার স্পর্শ—তখন একজন মানুষ কেবল সংস্কৃতির ধারক হয়ে থাকেন না, হয়ে ওঠেন মানবিকতারও এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
শেকড়ের টানে জাগুক সুর, সুরের বন্ধনে কাছে আসুক দেশ ও প্রবাস, আর মানবিকতার আলোয় আরও সুন্দর হয়ে উঠুক আমাদের সমাজ—এই প্রত্যাশাতেই এগিয়ে যাক ‘শেকড় থেকে সুরে’র অভিযাত্রা।

✍️ মন্তব্য লিখুন