২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত না হওয়া সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আগামী এপ্রিল ২০২৬-এ নেওয়া হবে। পরীক্ষা সামনে রেখে প্রশ্নপত্রের কাঠামো, নম্বর বণ্টন ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সোমবার (২৩ মার্চ) অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, এবার বৃত্তি পরীক্ষা হবে পাঁচ বিষয়ে—বাংলা, ইংরেজি, গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে। প্রাথমিক বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০+৫০ নম্বর মিলিয়ে আরও ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে একই সময়সীমায়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন। বৃত্তির জন্য প্রতিটি বিষয়ে অন্তত ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
বৃত্তির ধরন দুটি—ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ। উভয় ক্ষেত্রেই ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রী নির্বাচন করা হবে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নীতিমালায় পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না; মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনা নিষিদ্ধ; উত্তরপত্রের ওএমআর অংশে নির্ধারিত তথ্য ছাড়া অন্য কিছু লেখা যাবে না; ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর ছাড়া উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে; এবং প্রশ্নপত্র বিতরণের পর এক ঘণ্টা না পেরোনো পর্যন্ত কেউ হল ত্যাগ করতে পারবে না।
এ ছাড়া উত্তরপত্রে নাম, ঠিকানা, রোল নম্বর বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন লেখা যাবে না; অতিরিক্ত খসড়া কাগজ দেওয়া হবে না; উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল, শরীর বা অন্য কোথাও কিছু লেখা নিষিদ্ধ; পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়ে হল ছাড়তে হবে; এবং কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্দেশনাও মানতে হবে।
আচরণবিধিতেও কড়াকড়ি রাখা হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা একে অন্যের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না। প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে কিছু লিখে আদান-প্রদান করা যাবে না। অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা বা কাউকে দেখাতে সহযোগিতা করাও নিষিদ্ধ। উত্তরপত্র জমা না দিয়ে হল ত্যাগ করা যাবে না এবং উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা পরিবর্তন বা নষ্ট করাও যাবে না।
নীতিমালার এই নির্দেশনাগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, এবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জালিয়াতি প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে পরীক্ষার কাঠামো, সময়, নম্বর বণ্টন ও অংশগ্রহণের শর্ত আগেভাগে স্পষ্ট করে দেওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি নেওয়ার একটি পরিষ্কার দিকনির্দেশনা পেল।
✍️ মন্তব্য লিখুন