নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৪ PM
বেসরকারি স্কুল-কলেজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে অভিজ্ঞতার শর্ত বাড়ানো নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন–এর সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আদালতের রিট, সিদ্ধান্তে অপেক্ষা
বৈঠক-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধানদের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত একটি রিট বিচারাধীন থাকায় আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রিটের শুনানি বুধবার হওয়ার কথা রয়েছে।
কারা ছিলেন বৈঠকে
সভায় উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: শাহজাহান মিয়া, বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ–এর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বি এম আব্দুল হান্নান।
কী প্রস্তাব বিবেচনায়
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শীর্ষ দুই পদ—প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান—এ কম অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের প্রবেশ ঠেকাতে যোগ্যতার শর্ত কঠোর করার প্রস্তাব উঠেছে। আলোচনায় ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনায় আসে। একই সঙ্গে ১৫ বছর ও ১২ বছরের অভিজ্ঞতার পৃথক শর্তের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী—
উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হয়। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, কলেজের অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ পদে কিংবা এমপিওভুক্ত সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা আবশ্যক।
নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে স্নাতক বা সমমান ডিগ্রি ও বিএড ডিগ্রির পাশাপাশি এমপিওভুক্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষক হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী প্রধান শিক্ষক বা নিম্ন-মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১৭ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদনযোগ্যতা রয়েছে।
নীতিমালায় সম্ভাব্য পরিবর্তন
মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নেতৃত্বের মান ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে অভিজ্ঞতার শর্ত আরও কঠোর করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে আদালতের নির্দেশনার ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অভিজ্ঞতার মানদণ্ড বাড়ানো হলে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষকদের নেতৃত্বে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা তরুণ ও মেধাবী শিক্ষকদের জন্য সুযোগ সংকুচিত করতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
আদালতের শুনানি শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পুনরায় বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন