নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৫ PM
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে প্রস্তুত করা সফটওয়্যারের চূড়ান্ত যাচাই শুরু হয়েছে। সফটওয়্যারটি আগে যাচাই করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করে চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মাউশির একাধিক সূত্র জানায়, সফটওয়্যারটির প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা এ নিয়ে সন্তুষ্ট। তবে বৃহৎ পরিসরে তথ্য যাচাইয়ের জন্য Education Management Information System (ইএমআইএস) সেল থেকে শিক্ষকদের হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পাওয়ার পর পরীক্ষামূলকভাবে সফটওয়্যার চালিয়ে দেখা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে ডেমো প্রদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, “বদলি সফটওয়্যার তৈরি হয়েছে। কিন্তু এটি হাজারো শিক্ষকের তথ্য নিয়ে কাজ করবে। তাই প্রতিটি তথ্য সঠিকভাবে সংযুক্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বড় পরিসরে যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডেমো দেখানো হবে। আশা করছি, ওই সভাতেই চূড়ান্ত অনুমোদন মিলবে।”
দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপট
জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আগে সরাসরি বদলির সুযোগ ছিল না। তারা কেবল গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা আবেদন করতে পারলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে সে সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ সিদ্ধান্তের পর শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন সময় আন্দোলনও হয়। এর প্রেক্ষিতে বদলি চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বদলির জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন ও পরবর্তী সময়ে সংশোধনও করা হয়। তবে একাংশ শিক্ষকের রিট আবেদন, সফটওয়্যার প্রস্তুতে বিলম্ব এবং নীতিমালা সংশোধনসহ বিভিন্ন কারণে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
অনিশ্চয়তা কাটার প্রত্যাশা
সংশোধিত নীতিমালা জারি থাকলেও সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়ায় বদলি কার্যক্রম শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এখন সফটওয়্যার যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিললে পর্যায়ক্রমে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, যাচাই এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন