০৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:২২ PM
শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকের চতুর্থ শ্রেণি থেকে শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য ও শিল্পকলা শিক্ষা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে এবং এ বিষয়ে মূল্যায়ন পরীক্ষাও নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাখাতকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছেন। সে অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক ও কারিকুলাম যুগোপযোগী করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা ও সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ও শিল্পকলা শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতরে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর নিয়মিত মূল্যায়ন পরীক্ষা থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কেবল পাঠ্যজ্ঞান নয়, বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য দক্ষতাও অর্জন করতে পারে।
কারিকুলাম প্রণয়ন ও পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, উচ্চমানের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাজ করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো দলমত বা পক্ষপাত বিবেচনা করা হবে না। শিক্ষার মানোন্নয়নই হবে একমাত্র লক্ষ্য।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী, চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব), এনসিটিবি। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীর একান্ত সচিব প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ এনসিটিবির বিভিন্ন উইংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শিক্ষাবিদদের মতে, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে শিল্পকলার চর্চা সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রাথমিক শিক্ষায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন