আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইন লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) ভোরে ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু হামলা প্রতিহত করলেও একটি ড্রোন বিমানবন্দরের টার্মিনালে আঘাত হানে। এতে একজনের মৃত্যু ঘটে এবং বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর সীমিত আকারে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
অন্যদিকে বাহরাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির দিকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও কয়েকটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। বাহরাইনে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সতর্কতামূলক সাইরেন বাজিয়ে জনগণকে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে, হামলাগুলো মূলত কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। মার্কিন বাহিনী ও মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে চলমান যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার প্রচেষ্টা নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন