ডেস্ক নিউজ
জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই এবার ময়মনসিংহের ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য লিটন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে প্রায় ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমালোচনার প্রেক্ষাপটে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন।
ফেসবুক লাইভে এমপি লিটন দাবি করেন, ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, সেতু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় অবকাঠামো, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ব্যয় করা হয়েছে। তিনি প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, বরাদ্দের প্রতিটি টাকার হিসাব সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর রেকর্ডে সংরক্ষিত রয়েছে।
লাইভে তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন বাজেট নিয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল তথ্য ছড়ানো হলে জনগণের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়। সে কারণে সরাসরি জনগণের সামনে এসে প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা এবং অর্থ ব্যয়ের খাতসমূহ তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়; বরং এলাকার অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লার দেবীদ্বার আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ লাইভে এসে নিজের এলাকার উন্নয়ন বরাদ্দের হিসাব তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় হওয়া অর্থের বিস্তারিত তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটেই উন্মুক্ত রয়েছে এবং জনগণ চাইলে সহজেই তা যাচাই করতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি জনগণের সামনে এসে উন্নয়ন বরাদ্দের হিসাব প্রকাশ করার প্রবণতা জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উপস্থাপিত তথ্যের স্বাধীন যাচাই এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান মূল্যায়নও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ত্রিশালের উন্নয়ন বরাদ্দ সংক্রান্ত এমপি লিটনের উপস্থাপিত তথ্য নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে এসব প্রকল্পের বাস্তব ফলাফল ও জনসেবায় এর প্রভাবই ব্যয়ের কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন