ঢাকা, ২২ জুন — বিয়ে ও গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জাঁকজমক, অপচয় এবং সামাজিক প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি কমাতে ‘অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন’ কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন। তাঁর দাবি, এই আইন কার্যকর করা গেলে দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপও কমতে পারে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিয়ে ও গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যে অতিরিক্ত ব্যয়, আড়ম্বর এবং ভোগবাদী সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা সমাজ ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তাঁর মতে, অতীতে প্রচলিত অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন পুনরায় কার্যকর করা হলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে এবং বাজারে খাদ্যপণ্যের ওপর অতিরিক্ত চাহিদার চাপও হ্রাস পাবে।
সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন বলেন, “যদি অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করা যায় এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, তাহলে মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ কমে আসবে। এমনকি একদিনেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অন্তত ১০ শতাংশ কমে আসতে পারে।”
তিনি বিয়ে ও গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে পেশাদার কোরিওগ্রাফার এনে দীর্ঘদিন ধরে নাচের মহড়া এবং জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের সমালোচনা করেন। এসব আয়োজনকে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন এবং অপচয় রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাজেট আলোচনায় তিনি আরও বলেন, অতীতের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতির ওপর চাপ কমবে এবং বাজেট বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে।
অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে তাঁর বক্তব্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করেন, সামাজিক অনুষ্ঠানে অপচয় কমানো সঞ্চয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে; তবে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ মূলত উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা, রাজস্বনীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার মতো বৃহত্তর অর্থনৈতিক উপাদানের ওপর নির্ভরশীল।
✍️ মন্তব্য লিখুন