ডেস্ক নিউজ
জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা ও নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চললেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
সম্প্রতি জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন কার্যক্রমে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরির খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত বিবেচনা করা হবে।
বর্তমানে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নাগরিক সনদ অনুযায়ী, অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১ ও মেরিন ফুয়েলসহ বিভিন্ন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সরকারি প্রক্রিয়া বিপিসির প্রস্তাবের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি খাতকে আমদানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়ানো, সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারে জ্বালানি তেলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। তবে আমদানি উন্মুক্ত করা হলে মূল্য নির্ধারণ, মান নিয়ন্ত্রণ, মজুত সক্ষমতা, সরবরাহের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে থাকছে।
জ্বালানি তেল নিয়ে এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রকাশিত নীতিমালার তালিকায় বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণনসংক্রান্ত ২০২৩ সালের নীতিমালা রয়েছে। অর্থাৎ জ্বালানি খাতের নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ আগে থেকেই রয়েছে।
তবে সরাসরি পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাতকরণে বেসরকারি খাতের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়টি আলাদা এবং এর সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িত। ফলে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার আগে আমদানি ব্যবস্থা, মজুত অবকাঠামো, পরিবহন ও বিতরণব্যবস্থা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে।
এর আগে জ্বালানি সংকটের সময় সরকার জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের মজুত ছিল প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার টন। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নতুন চালান আসায় মজুতের পরিমাণ নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি খাতকে জ্বালানি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে একই সঙ্গে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, মজুতদারি বা সরবরাহে বৈষম্য ঠেকাতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রয়োজন হবে।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জানানো হবে। আপাতত বিষয়টি নীতিগত আলোচনা ও পর্যালোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন