নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর এবার যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন লঞ্চ মালিকেরা। এ বিষয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে লিখিত প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাপ) সংস্থা।
মালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বর্তমানে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৯৫ পয়সা ভাড়া নেওয়া হয়। এটি বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা করার দাবি জানানো হয়েছে। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে বর্তমান ২ টাকা ৫২ পয়সার পরিবর্তে প্রতি কিলোমিটারে ৪ টাকা ২ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার কথাও বলা হয়েছে।
মালিকদের সংগঠন বলছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এতে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। লঞ্চগুলো মূলত ডিজেল ও মবিলচালিত হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পরিচালন ব্যয়ে পড়ছে বলে দাবি তাদের।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বিভিন্ন ফি ও চার্জও বেড়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্দিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেছে মালিকদের সংগঠন। লঞ্চের যন্ত্রাংশ, রং, গ্যাস, ডকিংসহ বিভিন্ন পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে বলে তারা দাবি করেছে।
এ ছাড়া সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে অনেক যাত্রী সড়কপথে যাতায়াত করছেন। ফলে লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় আয় কমেছে বলেও দাবি মালিকদের।
লঞ্চ মালিকদের দাবি, প্রস্তাবিত ভাড়া অনুমোদন করা না হলে বর্ধিত ডিজেলের দাম প্রত্যাহার করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল বৃহস্পতিবার।
তবে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বরের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার মালিকদের প্রস্তাবিত ৫১–৬০ শতাংশ নয়, প্রথম ১০০ কিলোমিটারে প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা এবং পরবর্তী দূরত্বে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়িয়েছে; সর্বনিম্ন ভাড়া হয়েছে ৩৫ টাকা।
✍️ মন্তব্য লিখুন