নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের আগে সেখান থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাদুঘরের প্রদর্শনীতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ এসব অভিযোগ করেন। একই দিনে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে বিএনপি সরকারের সময়ে জাদুঘরের বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তনের অভিযোগ তোলেন এনসিপির প্রধান ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও।
আসিফ মাহমুদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, জাদুঘরের ‘বর্ডার কিলিং রুম’ নামে একটি অংশে সীমান্ত হত্যার বিভিন্ন আলামত ও নথি সংরক্ষিত ছিল। তাঁর দাবি, জাদুঘর উদ্বোধনের আগে পুরো অংশটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এ ছাড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানীর ভাস্কর্যও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির একটি অংশ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে আন্দোলনের ইতিহাসসংবলিত কিছু উপাদানও প্রদর্শনী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) ব্যবহার করে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের স্মৃতি ও আলামত নিয়ে তৈরি করা অংশও ছোট করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কিছু ছোট ছোট উপাদান বাদ দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে শনিবার সকালে জাদুঘর পরিদর্শন করে নাহিদ ইসলামও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাদুঘরের কাজ প্রায় শেষ হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে জাদুঘরের বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তন করেছে। বিশেষ করে আবু সাঈদের স্মৃতি, সীমান্ত হত্যা ও ফেলানীসংক্রান্ত কিছু উপাদান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, এসব পরিবর্তনের পেছনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সমঝোতা কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা বা জবাব পাওয়া যায়নি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তৈরি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরটি গত বুধবার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই জাদুঘরের প্রদর্শনীতে কী কী বিষয় রাখা হয়েছে এবং কী কী বাদ দেওয়া হয়েছে—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলামের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে জাদুঘর থেকে কোন কোন উপাদান কেন সরানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন