নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজারে সিন্ডিকেট ও মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার কাজ করছে। মজুদদারির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হবে।
শনিবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট ও আড়ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মজুদদারদের সতর্ক করে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুদদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তাই যারা মজুদদারি করবেন, তাঁদের বিষয়টি ভেবেচিন্তে করতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছেন। সরকার এসব সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষকদের লাভবান করার দিকে এগোচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে বাজারব্যবস্থার অনিয়ম বন্ধ করা জরুরি।
শৈলকুপার হাটের পরিস্থিতি তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষকেরা ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলালেও বাজারে এসে সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন। পাট বা পেঁয়াজ বিক্রির ক্ষেত্রে এক মণে অতিরিক্ত দুই কেজি করে ‘তোলা’ দিতে হতো বলে তিনি অভিযোগ করেন। এর সঙ্গে বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অন্যদেরও তোলা দিতে হয়। ফলে কৃষককে এক মণে ৪৫ কেজি পর্যন্ত পণ্য দিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাজারের এই সিন্ডিকেট আমরা ভেঙে দেব।’ এ বিষয়ে দেশের সব হাট ও বাজারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেন।
তোলা না দিলে পণ্য কিনবেন না—এমন হুমকি দেওয়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ব্যবসায়ীরা বাজার ছেড়ে চলে যেতে পারেন। তাঁদের জায়গায় বিকল্প ব্যবসায়ী তৈরি হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু একটি খাত নয়, সব খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে এমন একটি বাজারব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যেখানে কৃষক তাঁর উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং ভোক্তার ওপর অযৌক্তিক বাড়তি চাপ তৈরি হবে না।
আইনমন্ত্রীর বাজার পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে সিন্ডিকেট ও মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের এই ঘোষণা এমন সময়ে এল, যখন কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের দাম, মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা এবং বাজারে অতিরিক্ত মুনাফা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। এখন ঘোষিত ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন