নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমিল্লা | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কার্যত পানির নিচে তলিয়ে গেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস। এমন পরিস্থিতিতেই শুরু হয়েছে অনার্স চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা। হাঁটুসমান পানির মধ্যে দিয়ে হেঁটে, কখনও বেঞ্চের ওপর পা তুলে বসে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের—যা নিয়ে ক্ষোভ ও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের অধিকাংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। ব্যবসায় শিক্ষা ভবনের নিচতলা পুরোপুরি পানিতে ডুবে রয়েছে। একই অবস্থা কলা ভবন, মিলেনিয়াম ভবন এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের নিচতলাতেও। অনেক পরীক্ষার্থীকে জামাকাপড় ভিজিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুপযোগী। অনেক কক্ষে মেঝেতে পানি জমে থাকায় বেঞ্চের ওপর পা তুলে বসে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে টেবিলের ওপর দিয়ে চলাচল করছেন। “পড়ে গেলে কী হবে—এই ভয় নিয়েই পরীক্ষা দিচ্ছি,” বলেন এক পরীক্ষার্থী।
ক্যাম্পাসের বাইরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। কলেজের সামনের সড়কে হাঁটুর ওপর পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের অনেকগুলো মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ছে, ফলে পরীক্ষার্থীদের সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার ভূঁঞা বলেন, আশপাশের এলাকা তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি ক্যাম্পাসে এসে জমে থাকে। বিশেষ করে দক্ষিণ পাশে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় পানি সহজেই প্রবেশ করে। সমস্যা সমাধানে প্রায় ৪০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এই প্রকল্পের আওতায় পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে প্রতিরোধমূলক বাঁধ নির্মাণ করা হবে, যা বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতার প্রায় ৭০ শতাংশ সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন—এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া কতটা যৌক্তিক? সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
✍️ মন্তব্য লিখুন