ডেস্ক প্রতিবেদন
বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি কুঁড়েঘর। টিন ও বাঁশের তৈরি ছোট্ট বসতঘরটি দেখে কারও মনে হওয়ার কথা নয়, ভেতরে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), একাধিক সিসি ক্যামেরা এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এমনই এক মাদক ব্যবসায়ীর আস্তানার সন্ধান মিলেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তি এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। বাহিনীর নজর এড়াতে বাড়ির চারপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলাচল ও অপরিচিত ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হতো। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্বিঘ্নে মাদক কেনাবেচার জন্যই এ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাইরে থেকে জরাজীর্ণ ও সাধারণ দেখালেও ঘরের ভেতরে ছিল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এসির পাশাপাশি নজরদারির জন্য স্থাপন করা হয়েছিল একাধিক ক্যামেরা। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি এলাকায় প্রবেশ করলেই ব্যবসায়ীরা আগাম সতর্ক হয়ে যেতেন।
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিসি ক্যামেরা, মনিটর ও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে। তবে প্রধান অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক কারবারিরা এখন প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করে নিজেদের কার্যক্রম আড়াল করার চেষ্টা করছে। ফলে মাদকবিরোধী অভিযানে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন