আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তি আজই (রোববার) স্বাক্ষরিত হতে পারে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা উন্নয়নের পথ থেকে সরে আসবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদী ঘোষণার বিপরীতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা বাকি রয়েছে এবং স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা কমানো, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের বিস্তারিত আলোচনা এবং কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এসব শর্ত নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্যে এখনো পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন বাস্তবতার সূচনা হতে পারে।
তবে চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত নিশ্চিত তথ্যের জন্য এখন বিশ্বের দৃষ্টি ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে। কারণ ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ইরান এখনো সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন