আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করার পর উভয় পক্ষকে সামরিক সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছেন, যথেষ্ট হয়েছে, এবার টেবিলে আসুন”—যা মূলত যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি তার আহ্বানকে প্রতিফলিত করে।
রোববার রাতে ইরান উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, উত্তরাঞ্চলের কৌশলগত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। হামলার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইরানের হামলার পরপরই তেহরান, ইস্পাহান ও তাবরিজসহ কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি ইঙ্গিত দেন যে চলমান সামরিক পদক্ষেপ শান্তি আলোচনার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার মন্তব্যের মূল বার্তা ছিল—অস্ত্রের ভাষা নয়, আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ নয়; এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দিচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন