আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশ থেকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ওমানে গৃহকর্মীর কাজে গিয়েছিলেন শবনম (ছদ্মনাম)। কিন্তু বিদেশে পৌঁছানোর পর সেই স্বপ্ন দ্রুতই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। তিন মাস ধরে কোনো বেতন পাননি তিনি। অভিযোগ, প্রতিদিন প্রায় ১৫ ঘণ্টা কাজ করলেও বিশ্রাম বা নির্ধারিত শ্রমঘণ্টার সুযোগ মিলছে না।
শবনমের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রান্না, ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। অতিরিক্ত কাজের চাপের পাশাপাশি নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। দেশে থাকা পরিবারের কাছেও অর্থ পাঠাতে পারছেন না।
অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে গৃহকর্মীরা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, বেতন বকেয়া, পাসপোর্ট জব্দ এবং নিয়োগকর্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার মতো সমস্যার মুখোমুখি হন। বিশেষ করে নারী গৃহকর্মীরা এসব ঝুঁকিতে বেশি থাকেন।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস, স্থানীয় শ্রম মন্ত্রণালয় বা শ্রম অধিকার–সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অতীতে ওমানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বেতন বকেয়া সংক্রান্ত অভিযোগে দূতাবাস মধ্যস্থতা ও আইনি সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, চুক্তিপত্রের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং গন্তব্য দেশে কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বেতন বকেয়া বা শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন।
✍️ মন্তব্য লিখুন