ডেস্ক নিউজ
বাংলাদেশে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নির্ভুল ও সময়োপযোগী পূর্বাভাস ব্যবস্থা, কার্যকর নদী ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যার তীব্রতা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ফলে কেবল ত্রাণনির্ভর ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রস্তুতিই হতে পারে টেকসই সমাধান।
রাজধানীতে আয়োজিত বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিযোজনবিষয়ক এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আগাম ও নির্ভুল পূর্বাভাস পেলে মানুষ, কৃষি এবং অবকাঠামোর ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পূর্বাভাস ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাধার ভরাট, খাল-নদী দখল এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত হওয়ার কারণে শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই নতুন নগর পরিকল্পনায় জলাধার সংরক্ষণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা জানান, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, স্থানীয় সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর প্রস্তুতি গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে নদী খনন, বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বন্যাপ্রবণ দেশ হলেও উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব নগর উন্নয়নের মাধ্যমে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য নীতিনির্ধারণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন