ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর সদর উপজেলার ভাঙ্গা তাকিয়া এলাকায় মাছবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান খালে পড়ে যাওয়ার পর আহত চালক ও সহকারীকে উদ্ধারে এগিয়ে না এসে পানিতে ছড়িয়ে পড়া মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
শুক্রবার দুপুরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ থেকে তেলাপিয়া মাছ নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিল পিকআপটি। পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়কের পাশের খালে উল্টে পড়ে যায়। এতে মাছভর্তি ড্রামগুলো পানিতে ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন বালতি, বস্তা ও পলিথিন নিয়ে খালে নেমে মাছ সংগ্রহ শুরু করেন। এ সময় গাড়ির চালক মোহাম্মদ আল আমিন ও তাঁর সহকারী নিজেদের চেষ্টায় গাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। তবে স্থানীয়দের অধিকাংশই তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে না এসে মাছ ধরায় ব্যস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
চালক আল আমিন বলেন, সড়কের একটি সমস্যার কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর তাঁরা জীবন বাঁচাতে সংগ্রাম করছিলেন, কিন্তু আশপাশের লোকজন সাহায্যের পরিবর্তে মাছ ধরতেই বেশি আগ্রহ দেখান।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পানিতে ছড়িয়ে পড়া মাছের একটি বড় অংশ এলাকাবাসী নিয়ে যান। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া মাছের আর্থিক মূল্যও উল্লেখযোগ্য ছিল।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের আগে উদ্ধার না করে মাছ সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়াকে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, চালক ও সহকারী তখন ইতোমধ্যে গাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছিলেন বলেই অনেকে মাছ উদ্ধারে মনোযোগ দেন।
দুর্ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও ঘটনাটি মানুষের সংকটকালে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন