আজ ১২ জুন, আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।
২০০২ সালে International Labour Organization (আইএলও) প্রথম এ দিবসের সূচনা করে। পরবর্তীতে এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং শিশুশ্রম নির্মূলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। প্রতি বছর ১২ জুন দিবসটি পালনের মাধ্যমে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “Red Card to Child Labour: Fair Play for Children, Decent Work for Adults” (শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখান: শিশুদের জন্য ন্যায্য সুযোগ, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শোভন কাজ)। এবারের প্রতিপাদ্যে শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা, পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিশুশ্রমবিরোধী আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ ও আইএলওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এখনও প্রায় ১৩৮ থেকে ১৬০ মিলিয়ন শিশু বিভিন্ন ধরনের শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হয়, যা তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক শৈশবকে ব্যাহত করে। দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং পারিবারিক অর্থনৈতিক সংকট শিশুশ্রমের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুশ্রম নির্মূলে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ জরুরি। একই সঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরবরাহ ব্যবস্থায় শিশুশ্রমের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারিও প্রয়োজন।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা আলোচনা সভা, র্যালি, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং শিশু অধিকারবিষয়ক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুশ্রমমুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্য আরও এগিয়ে যাবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন