ডেস্ক নিউজ
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে “অধিক ঋণনির্ভর, উচ্চাভিলাষী, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের বাজেট” বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি; বরং এটি অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বাজেটের বড় অংশই ঋণনির্ভর অর্থসংস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ঋণের বোঝা বাড়াতে পারে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জামায়াতের মতে, বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। দলটি অভিযোগ করে, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার বিভিন্ন পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের ব্যয় আরও বাড়তে পারে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা আরও বলেন, বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে উচ্চাভিলাষী বাজেটের অনেক লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। ফলে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও জবাবদিহিমূলক ব্যয় ব্যবস্থাপনা ছাড়া এ ধরনের বাজেট কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।
জামায়াত অবিলম্বে প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্বিবেচনা করে বিনিয়োগবান্ধব, কর্মসংস্থানমুখী এবং জনকল্যাণকেন্দ্রিক বাজেট প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। দলটির মতে, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস, উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার না দিলে জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পাবে না।
অন্যদিকে সরকারপক্ষ বলছে, প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেট নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার পর সংসদে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন