আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১৮টি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলার জবাবে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আইআরজিসি একে “নির্ণায়ক সামরিক প্রতিক্রিয়া” হিসেবে উল্লেখ করে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংস্থাটির এক শীর্ষ কমান্ডার বলেছেন, প্রয়োজন হলে তারা পুরো অঞ্চলকে “যুদ্ধক্ষেত্রে” পরিণত করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের অনেক দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের ছোড়া বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডনের সামরিক কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলার বেশিরভাগ অংশ ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
বার্তা সংস্থাগুলোর খবরে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি এবং চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও এর প্রভাবের আওতায় চলে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন