আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর অবশেষে সাময়িকভাবে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরায়েল। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পর দুই দেশই জানিয়েছে, আপাতত তারা একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালাবে না। তবে উভয় পক্ষই সতর্ক করে বলেছে, প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে নতুন হামলা হলে তারা কঠোর জবাব দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump উভয় দেশকে অবিলম্বে সংঘর্ষ বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ইরান ও ইসরায়েল উভয়ই দ্রুত যুদ্ধবিরতির পথে এগোতে আগ্রহী এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত হয় লেবাননে ইসরায়েলি হামলার পর। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পরে ইসরায়েলও ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যদিও এই দফার সংঘর্ষে বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সাম্প্রতিক অভিযান শেষ হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ইরান বা তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলা হলে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েলও। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, নিরাপত্তা হুমকি দেখা দিলে সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু করা হবে।
সংঘাত প্রশমনের এই ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক মহল ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মূল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল বলা যাবে না। তাই বর্তমান বিরতি কার্যত একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি, যা যেকোনো সময় নতুন উত্তেজনার মুখে ভেঙে পড়তে পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দুই পক্ষকেই সংযম প্রদর্শন এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন