ডেস্ক নিউজ
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা সংবলিত রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে হাইকোর্ট এক রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধানকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
রায় প্রকাশের পর রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল করে এবং রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আবেদন জানায়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল শুরু থেকেই বলে আসছিলেন যে, মামলাটিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত থাকায় বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত আপিল বিভাগে।
আইনজ্ঞদের মতে, পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা হলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমে সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় হতে পারে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান হলো, এ ধরনের মৌলিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের আগে সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের ফলে হাইকোর্টের নির্দেশনা আপাতত কার্যকর হবে না। মামলার চূড়ান্ত শুনানি ও রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা বিষয়ে ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক অবস্থান।
বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট মহলে এ মামলাকে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার কাঠামোগত স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। চূড়ান্ত রায় দেশের বিচার প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন