ডেস্ক রিপোর্ট
আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার বলছে, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এই বরাদ্দের ঘোষণা দেন। প্রস্তাবিত বরাদ্দ গত অর্থবছরের শিক্ষা খাতের ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। নতুন বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশের সমান।
বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়, শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ ধাপে ধাপে আরও বাড়িয়ে ভবিষ্যতে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচিতে অধিক বিনিয়োগ করা হবে।
সরকারের বাজেট কাঠামো অনুযায়ী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা—এই তিনটি প্রধান বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উন্নয়ন ব্যয়ের অংশে শিক্ষা অবকাঠামো সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, বরাদ্দ বৃদ্ধির এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতকে দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মানবসম্পদ উন্নয়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করার সরকারি পরিকল্পনার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন