যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে নতুন করে আটটি কলেজকে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, পাশাপাশি অনিয়ম ও পরীক্ষার্থী স্বল্পতার অভিযোগে ১১টি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন জানান, বোর্ড কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্র নির্ধারণে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট চিঠি ইতোমধ্যে বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন কেন্দ্র হিসেবে যুক্ত হওয়া কলেজ
নতুন তালিকায় স্থান পাওয়া আটটি কলেজ হলো—
বাগেরহাটের মোল্লাহাট লায়লা আজাদ ডিগ্রি কলেজ
যশোরের নওয়াপাড়া মডেল কলেজ
শরণখোলা মাতৃভাষা কলেজ
কুষ্টিয়া সিটি কলেজ
খুলনার দাকোপের সরকারি লাউডোব বাজুয়া কৈলাশগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ
যশোরের শার্শার ডক্টর মশিউর রহমান মহিলা কলেজ
ঝিকরগাছার রঘুনাথনগর কলেজ
খুলনার চালনা কলেজ
স্থগিত হওয়া কেন্দ্রসমূহ
অন্যদিকে, পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষার্থী না থাকার কারণে ১১টি কলেজের কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
খুলনা ইসলামিয়া কলেজ
দাউদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ
নওয়াপাড়া মহিলা কলেজ
লোহাগড়া লাহুড়িয়া এস এম এ আহাদ কলেজ
দারিয়াপুর কলেজ
জি কে আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ
নাকেলা সম্মিলনী ডিগ্রি কলেজ
শত্রুজিৎপুর কালিপ্রসন্ন কলেজ
হাজীপুর সম্মিলনী কলেজ
সরকারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান কলেজ
ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ
নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিতে জোর
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, “যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে সেগুলোই নির্বাচন করা হয়েছে। আর যেখানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেসব কেন্দ্র সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বোর্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে যদি কোনো কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সার্বিক প্রেক্ষাপট
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের এই উদ্যোগ পরীক্ষার মান ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্র স্থগিত করা হলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও সতর্ক থাকবে। তবে একইসঙ্গে নতুন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও প্রস্তুতিও নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই মাস পর শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বোর্ডের এমন পদক্ষেপ স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল পরীক্ষা আয়োজনের প্রত্যাশা আরও জোরালো করেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন