ঢাকা, ২৫ মার্চ ২০২৬
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর নির্ধারণের অধ্যাদেশে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। একইসঙ্গে বয়সসীমা আরও বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার প্রস্তাবও এসেছে, যা ভবিষ্যতে বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান বিরোধীদলীয় হুইপ ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
কী আলোচনা হয়েছে
বৈঠকে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনে সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা বাড়ানোর অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে অংশ নেওয়া সদস্যরা বর্তমান প্রস্তাব—৩০ থেকে ৩২ বছর—সমর্থন করেন।
তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বয়সসীমা ৩৫ বছর করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে সরকারি দলের প্রতিনিধিরা জানান, বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়ে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। ফলে এ প্রস্তাবটি নতুন করে বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
কমিটির অবস্থান
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণে কমিটির সবাই একমত হয়েছেন। পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়েও আলোচনা চলছে, যার মধ্যে রয়েছে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধনী) অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫।
আরও যেসব বিষয় উঠে এসেছে
বৈঠকে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে ২৭টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে মাত্র পাঁচটি ছাড়া অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে কমিটি। এসব অধ্যাদেশ ধাপে ধাপে সুপারিশ আকারে সংসদে উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আলোচিত একটি বিষয়। বিশেষ করে করোনাকালসহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষাজীবনে বিলম্ব হওয়ায় অনেকেই বয়সসীমা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ হলে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী নতুন করে সুযোগ পাবেন। তবে ৩৫ বছর করার প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে তা আরও বড় পরিসরে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন নির্ভর করছে সংসদে বিল উত্থাপন ও পাসের ওপর।
✍️ মন্তব্য লিখুন