দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন চিকিৎসা অনুদান দেবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক বা সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মার্চ–এপ্রিল প্রান্তের অনলাইন আবেদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আবেদনের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল ২০২৬। এ তথ্য ট্রাস্টের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন চিকিৎসা অনুদান হিসেবে ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে। নির্বাচন করা হবে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে, এবং অনুদান প্রদান করা হবে ‘দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান নির্দেশিকা, ২০২০’ অনুসরণ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসা মেয়াদে একজন শিক্ষার্থী কেবল একবারই এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। চিকিৎসা গ্রহণের সময়কাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অর্থবছর অথবা এক বছরের মধ্যে হতে হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময়সীমাও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগের এক বছরের মধ্যে থাকতে হবে। অর্থাৎ, এটি সাধারণ চিকিৎসা সহায়তা নয়; কেবল দুর্ঘটনাজনিত গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রেই এ অনুদান প্রযোজ্য।
যোগ্যতার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। আবেদনকারীকে পূর্ববর্তী শ্রেণিতে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসির ক্ষেত্রে জিপিএ–৫ স্কেলে কমপক্ষে ৩.৫০ এবং স্নাতক পর্যায়ে জিপিএ–৪ স্কেলে কমপক্ষে ৩.০০ থাকতে হবে। এছাড়া সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীদের সন্তান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যাঁদের অভিভাবকের বার্ষিক আয় ২ লাখ টাকার কম, তাঁরা এ সহায়তার জন্য বিবেচিত হবেন।
আবেদনের সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—সিভিল সার্জন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রত্যয়নসহ গুরুতর আহত হওয়ার চিকিৎসা সনদ, চিকিৎসাসংক্রান্ত রিপোর্ট এবং ট্রাস্টের নির্ধারিত ফরমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়নপত্র। কিছু মাধ্যমে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থ ছাড়ের জন্য শিক্ষার্থী বা তাঁর অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাইয়ে চেকপাতা বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের স্ক্যান কপিও লাগতে পারে।
আবেদন করতে হবে অনলাইনে, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে। সরকারি নোটিশটি ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করা জরুরি।
এই উদ্যোগকে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবার থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় সামাল দিতে এ অনুদান বাস্তব সহায়তা দিতে পারে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে শর্ত, সময়সীমা ও কাগজপত্রের যথাযথতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ—কারণ অনুদানটি প্রতিযোগিতামূলক বাছাইয়ের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন