কুমিল্লার সদর দক্ষিণে ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত ও আরও অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে শোক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই একাধিক যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে, যা ঘটনাটির মানবিক ট্র্যাজেডিকে আরও গভীর করেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। নিহতদের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় রেললাইনে উঠে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে বাসটি ট্রেনের সামনে পড়ে গেল—সেটি নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রয়োজন। চালকের অসাবধানতা, ক্রসিং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, সিগন্যাল সমস্যা, অথবা গেটম্যানের ত্রুটি—সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের লেভেল ক্রসিংগুলোর নিরাপত্তা প্রশ্নে বড় উদ্বেগ সামনে এনেছে। বিশেষ করে মহাসড়কসংলগ্ন ব্যস্ত ক্রসিংগুলোতে পর্যাপ্ত সতর্কসংকেত, গেটব্যবস্থা, তদারকি এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক প্রাণহানি বারবার ঘটতেই থাকবে।
সব মিলিয়ে, কুমিল্লার এই দুর্ঘটনা শুধু একটি সড়ক-রেল সংঘর্ষ নয়; এটি আমাদের পরিবহন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার নির্মম প্রতিফলন। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো, হতাহতদের চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
✍️ মন্তব্য লিখুন