ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন অনেক মানুষ, তবে বড় স্বস্তির খবর হলো—ট্রেন চলাচলে কোনো শিডিউল বিপর্যয় দেখা যায়নি। রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬ সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে। সারাদিনে ঢাকা থেকে মোট ৩২টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
ঈদের আগে অতিরিক্ত ভিড় ও যাত্রাভোগান্তি এড়াতে অনেকে এবার পরিবার নিয়ে ঈদের পরদিন বা দ্বিতীয় দিনে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। তুলনামূলক কম ভিড় থাকায় যাত্রীরা স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন। অনেকের ভাষ্য, ঈদের পরের ছুটির সময়টা গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে কাটাতেই তারা এখন যাত্রা করছেন।
অন্যদিকে, ঈদের দিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আজ থেকেই অনেকে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ধারণা, সোমবার ২৩ মার্চ ২০২৬ থেকে রাজধানীমুখী যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবারের ঈদযাত্রা সামগ্রিকভাবে স্বস্তিদায়ক ছিল। কুমিল্লায় শেষ মুহূর্তে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটলেও তার প্রভাব ট্রেন চলাচলে পড়েনি; বর্তমানে রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে স্বস্তির মাঝেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা চোখে পড়েছে—চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী ট্রেনগুলোতে যাত্রীর চাপ এখনও অনেক বেশি। রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সময়সূচি ঠিক থাকলেও কিছু ট্রেনে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী উঠছেন। সকালে ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেসে আসনের প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী দেখা গেছে। শুধু কোচের ভেতর নয়, দরজার সামনে, বগির সংযোগস্থল, এমনকি ছাদেও যাত্রী ওঠার দৃশ্য দেখা গেছে, যা নিরাপত্তার দিক থেকে উদ্বেগজনক।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদের দ্বিতীয় দিনের রেলযাত্রা সময়সূচির দিক থেকে স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক হলেও অতিরিক্ত যাত্রীচাপ, বিশেষ করে জনপ্রিয় রুটগুলোতে, এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। শিডিউল বিপর্যয় না থাকাটা ইতিবাচক হলেও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
✍️ মন্তব্য লিখুন