বান্দরবান, ২২ মার্চ ২০২৬: ঢাকা থেকে বান্দরবানগামী সৌদিয়া পরিবহনের একটি পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ি খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাসের সুপারভাইজারসহ অন্তত ৫ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়ন ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কেরানীহাট–বান্দরবান মহাসড়কের বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন। সুয়ালক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে আহতদের বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই সময় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যেরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রিফাত বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতর থেকে অনেক পর্যটককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বাসটিতে থাকা অধিকাংশ যাত্রী সামান্য আহত হলেও অন্তত ৫ জন গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামার সময় অতিরিক্ত গতি ও চালকের অসাবধানতাই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।
বান্দরবান সদর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) ত্রিরতন বড়ুয়া বলেন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের যৌথ চেষ্টায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসে চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ মোট ৪৩ জন আরোহী ছিলেন বলে একজন যাত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন। তাঁরা শনিবার রাতে ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আহতদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন পর্যটক বিভিন্ন মাত্রার আঘাত পেয়েছেন। গুরুতর আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের পাহাড়ি অংশে অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মতে, আঁকাবাঁকা সড়ক, ঢালু পথ, অতিরিক্ত গতি এবং চালকদের অসতর্কতা এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় সড়কটিতে পর্যটকবাহী যান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন