নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ এপ্রিল ২০২৬
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে ক্লাস চালুর পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তকে “হঠকারিতা” ও “বাস্তবতা জ্ঞানহীন” বলে উল্লেখ করেন।
বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ
ড. নকীব তার বক্তব্যে দেশের ডিজিটাল বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে প্রায় এক লাখ স্কুল এবং ৮০ হাজারের বেশি গ্রাম রয়েছে। অথচ সব পরিবারের হাতে স্মার্টফোন নেই—গ্রামীণ এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পরিবার এখনো এ সুবিধার বাইরে।
তার মতে, এই বাস্তবতা বিবেচনায় না এনে অনলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে শিক্ষা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করতে পারে।
শিক্ষক প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন
শুধু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাই নয়, শিক্ষকদের দক্ষতার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ড. নকীব বলেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকরভাবে নিতে হলে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি প্রয়োজন, যা দেশের অধিকাংশ শিক্ষকের নেই। ফলে হঠাৎ করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।
নীতিগত সিদ্ধান্তে সমালোচনা
তিনি তার পোস্টে আরও লেখেন, শিক্ষা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যাপ্ত গবেষণা, পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই করা উচিত ছিল। তা না করে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়াকে তিনি “খুব বাজে” বলে আখ্যা দেন।
প্রেক্ষাপট
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, নগরাঞ্চলের তীব্র যানজট এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি-অভিগম্যতা নিশ্চিত না করে অনলাইন শিক্ষা কার্যকর করা কঠিন। ফলে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে আরও বিস্তৃত প্রস্তুতি ও নীতিগত সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন