আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো এ হামলাকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে কোন ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে, সে বিষয়ে আইআরজিসি বিস্তারিত জানায়নি। হামলার পর এক বিবৃতিতে তারা সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ‘আগ্রাসনের’ জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাসের কাছে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই স্থাপনা থেকে মার্কিন বাহিনী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি হচ্ছিল। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর কাছে কয়েকটি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার প্রচেষ্টা চললেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা গেছে। বৈশ্বিক তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলোর অন্যতম এই প্রণালীতে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সীমিত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত তাদের বাহিনী ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে জবাব দিতে তারা দ্বিধা করবে না।
বিশ্ব কূটনৈতিক মহল এখন পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন সংকটে পড়তে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন