আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলা এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক সংঘাত সেই প্রত্যাশাকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ৯৬ ডলারের ওপরে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দামও ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন হামলা এবং ইরানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের ফলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ Strait of Hormuz ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার কারণে এ অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহনে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে গত কয়েক দিনে যে ইতিবাচক বার্তা এসেছিল, নতুন সামরিক সংঘাত তা দুর্বল করে দিয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আবারও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তেল কেনার দিকে ঝুঁকছেন, যা দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকলে এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়বে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন