আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় আবাসিক এলাকা, সড়ক এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন। তারা দক্ষিণ লেবাননের আদলুন মহাসড়ক দিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সময় একটি ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হন। এছাড়া টাইর, সাইদা ও নাবাতিয়েহ অঞ্চলেও একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা। হামলায় বহু বাড়িঘর ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। হামলার আগে কিছু এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে সরিয়ে যাওয়ার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল বলে তারা জানিয়েছে।
একই দিনে রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠেও একটি বিমান হামলা চালানো হয়, যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে প্রথম বড় ধরনের হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান উত্তেজনা দ্রুত বিস্তৃত আকার ধারণ করছে। মার্কিন মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যত ভঙ্গের মুখে পড়েছে এবং সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা লেবাননে মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন