নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫০ PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ-২০২৬’ পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলের অধিবেশনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অধ্যাদেশটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
এর আগে গত ১২ মার্চ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মো. আসাদুজ্জামান সংসদে অধ্যাদেশটি উত্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষে তা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাতটি সরকারি কলেজ—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ—‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো ও সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার বহাল থাকবে।
অধ্যাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে চ্যান্সেলর, ভাইস চ্যান্সেলর, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দেবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পৃথক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রতিটি স্কুলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হবে।
ভর্তি প্রক্রিয়ায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। তারা মূল ক্যাম্পাস অথবা সংযুক্ত কলেজে অধ্যয়নের সুযোগ পাবে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এছাড়া জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষাব্যবস্থায় সমন্বয়, মানোন্নয়ন এবং গবেষণার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তবে সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক দক্ষতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন