লক্ষ্মীপুর/কুমিল্লা প্রতিনিধি | ২৭ মার্চ ২০২৬
ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফেরার পথে কুমিল্লায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক মাদরাসা শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরও এক সদস্য। এই দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারচালকও প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কালাকচুয়া এলাকায় ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন।
নিহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন—
মুফতি আব্দুল মমিন (৫০), মাদরাসা শিক্ষক
তার স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০)
ছেলে সাইফ (৭)
মেয়ে লাবিবা (১৮)
প্রাইভেটকারচালক জামাল হোসেন (৫২), বাড়ি বরিশাল
গুরুতর আহত হয়েছেন মমিনের আরেক ছেলে আবরার (১২)। তাকে কুমিল্লার ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া
নিহত মমিনের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটি কাটাতে তিনি পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ছুটি শেষে ঢাকার মোহাম্মদপুরে কর্মস্থলে ফেরার সময়ই ঘটে এই দুর্ঘটনা।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মমিন ছিলেন বড়। এর আগে তার আরও দুই ভাই মারা গেছেন। ফলে এই দুর্ঘটনায় পরিবারটি কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জানাজা ও দাফন
আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামের বশা হাজি পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল বলেন,
> “এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ। ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। এক যাত্রাই যেন তাদের জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে গেল।”
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং ও ক্লান্ত চালনার কারণে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন